পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চ সোমবার ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা আর্জিগুলি ৪n১-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে খারিজ করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ১০০০ এবং ৫০০ টাকার নোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন ৪ জন বিচারপতি। যাঁরা নোটবন্দির সিদ্ধান্তকে আইনত সঠিক বলেছেন, তাঁরা বলেন বিচারপতি এস আবদুল নাজির, বি আর গাভাই, এ এস বোপান্না এবং ভি রামা সুব্রহ্মণ্যম। কিন্তু পঞ্চম বিচারপতি বি ভি নাগারত্না বাকি চার বিচারপতির রায়ের সঙ্গে এক মত হতে পারেননি।
তাঁর একার রায়ে তিনি ভিন্ন মত পোষণ করে বলেছেন, নোটবন্দির সরকারি বিজ্ঞপ্তি বেআইনি ছিল।আরও পড়ুন:
তবে সংবিধানের বেঞ্চের অন্য চার জন বিচারপতি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে মোদি সরকারের নোটবন্দির সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের রায় পড়ে শোনালেন বিচারপতি বি আর গাভাই। সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলা হয়েছে, অর্থনীতির সিদ্ধান্তকে আদালতের রায়ে প্রতিস্থাপিত করা যায় না। নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকার রিজার্ভব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে ৬ মাস ধরে আলোচনা চালিয়েছে।
তারপর সরকার নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার পেছনে রয়েছে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুচিন্তিত কৌশল।আরও পড়ুন:
তাই চারজন বিচারপতির মতে, নোটবন্দির সিদ্ধান্তে ভারসাম্য বজায় থেকেছে। রায় পড়তে গিয়ে বিচারপতি গাভাই বলেন, আরবিআইয়ের নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীন ক্ষমতা নেই। নোটবন্দির যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, তা আইনত সঠিক এবং বৈধ। তাছাড়া নোটবন্দির পর নোট পালটানোর যে সময় দিয়েছিল সরকার তা খুবই যুক্তিসংগত ছিল, ৪ বিচারপতির রায়ে মোটামুটি পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে, ১) রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সঙ্গে পরামর্শ এবং আলোচনা করে আরবিআই আইনের ২৬(২) ধারায় কেন্দ্রীয় সরকার নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।
২) নোটবন্দির যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল তা আইনত বৈধ। ৩) পুরনো নোট বদলির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়েছে সরকার। ৪)নোটবন্দির আগে ৬ মাস ধরে সরকার আলোচনা চালিয়েছে আরবিআইয়ের সঙ্গে। ৫) কেন্দ্রীয় সরকারের নোটবন্দির ক্ষমতা আছে, আইনত সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করায় কোনও ভুল নেই।আরও পড়ুন:
আরবিআই-এর নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীন অধিকার নেই। এই মামলায় বাদীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন শ্যাম দিওয়ান এবং পি চিদম্বরম। আরবিআই-এর আইনজীবী ছিলেন জয়দীপ গুপ্ত। সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল।