পুবের কলম প্রতিবেদক: বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনেই ঘোষণা হয়েছিল শালবনিতে দু’টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করবে জিন্দলরা। সেই ঘোষণা এখন বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। আগামী সোমবার ২১ এপ্রিল শালবনিতে জিন্দল গোষ্ঠীর নতুন তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের শিলান্যাস হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতে। পরের দিন, ২২ এপ্রিল গড়বেতার গোয়ালতোড়ে একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্যও শিলান্যাস করবেন মমতা (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু রোজকার ব্যবহারের জন্যই নয়, শিল্প স্থাপনার জন্যও যাতে বিদ্যুতের অভাব না পড়ে, সেজন্যই একের পর এক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে রাজ্যে। যা বুঝিয়ে দেয়, রাজ্যে শিল্পের চাহিদা বাড়ছে। বাংলা মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বললেন, বিশ্ব এসেছে বাংলার ঘরে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে জোর দেওয়া হচ্ছে।
শালবনিতে ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটো পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে। দুটো মিলিয়ে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষম পাওয়ার প্লান্ট হবে। এজন্য জিন্দলরা ১৬০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন। প্রতিযোগিতামূলক বিডিং -এর মাধ্যমেই জিন্দলরা এই পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের বরাত পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ভারতে এমন প্রোজেক্ট আর নেই। ২১ এপ্রিল দুপুর দুটোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের শিলান্যাস স্থাপনের অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব, জিন্দাল সাহেব এবং তাঁর ছেলেও থাকবেন। শিলান্যাসের পরেই বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়ে যাবে। যার ফলে একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে এবং বাংলার অর্থনীতি মজবুত হবে।আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, রাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। বিদ্যুতের ব্যবহার ১১ শতাংশ বেড়েছে। মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘিতে পঞ্চম পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করা হবে। দুর্গাপুর, বক্রেশ্বর, সাঁওতালদিহিতে আরও দুটো থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের কাজ হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউবিপিডিসিএল রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যথেষ্ট ভালো কাজ করছে। অনেকগুলি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। যা বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।
আরও পড়ুন:
মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, এরপর দেওচা পাচামি হয়ে গেলে আগামী ১০০ বছর সমস্যা খাকবে না। বিদ্যুতের দাম কমে যাবে।
দেওচা পাঁচামী প্রকল্পের জন্য যাঁরা জমি দিয়েছেন, তাঁদের এদিন ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা জমি দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ, চাকরি দেওয়ার ফের আশ্বাস দেন। আগামী দিনে দেওচা পাচামী প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়ে দিলেন তিনি।আরও পড়ুন:
২১ এপ্রিল দুপুরে শালবনিতে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পরে ২২ এপ্রিল দুপুর সাড়ে বারোটায় গোয়ালতোড়ে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিলান্যাস করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, জার্মানির এক সংস্থা ৮০ শতাংশ আর্থিক বিনিয়োগ করেছে এই প্রকল্পের জন্য। ৭৫৭ কোটি বিনিয়োগে গড়বেতার গোয়ালোতাড়ে এই ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন এনার্জি প্লান্টের সূচনা হবে।
আরও পড়ুন:
সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিলান্যাসের পরে ওইদিনই ২৫ টি ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এর মধ্যে ১৫ টি গাড়ি দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময়ে কাজে লাগানো হবে। বাকি ১০ টি গাড়ি কলকাতায় যাবে। এছাড়া কাটোয়ায় একটা ফায়ার স্টেশনও উদ্বোধন করার সূচি রয়েছে ২২ এপ্রিল।