পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:   কেন্দ্রের বর্তমান বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল ওয়াকফ সম্পূর্ণ সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাপার। ইসলাম ধর্মের সঙ্গে ওয়াকফের কোনও সংযোগ নেই, না এটা ইসলাম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ওয়াকফে হস্তক্ষেপ মানে ধর্মের উপর আঘাত বলে বিরোধী পক্ষ যেভাবে বাজার গরম করছে সেটা ঠিক নয়। আর সেক্যুলার কর্মকাণ্ডে অমুসলিমদের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি করাও ঠিক নয়। এ ছাড়া রেজিস্ট্রি হয়নি এমন সম্পত্তির উপর থেকে ওয়াকফ তকমা তুলে নেওয়া হলে ধর্মের উপর আঘাত দেওয়া হবে না।

কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার ওয়াকফ মামলার শুনানির তৃতীয় দিনে জম্মু-কাশ্মীরের আইনজীবী এ এম দার তাঁর জবাবি যুক্তি পেশের সময় সুপ্রিম কোর্টে জানালেন, ওয়াকফ ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অঙ্গ। পবিত্র কুরআনে দান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। আইনজীবী দার বলেন, ওয়াকফ আরবি শধের অর্থ ধরে রাখা, রেখে দেওয়া বা সংযুক্ত থাকা। এই ওয়াকফ চিরন্তন। এর কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ইসলামে সদকা-এ জারিয়া বা চিরন্তন দানের উপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি যত বেশি ওয়াকফ করবেন, তিনি তত বেশি আল্লাহ্র নিকটবর্তী হবেন।

আইনজীবী দার নবী মুহাম্মদ সা.-এর প্রসঙ্গ টেনে উদাহরণ পেশ করেন তিনি বলেন, ৬২২ হিজরিতে নবী সা. যখন হিজরত করছিলেন, সে সময় এক বিশাল খেজুর বাগান ওয়াকফ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, এই বাগানের ফল থেকে মদিনার ছেলেদের উপকার হবে। ইসলামের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম ওয়াকফ।

তিনি বলেন, শত শত বছর ধরে সম্পত্তি ওয়াকফ হয়ে আসছে। বহু ওয়াকফ সম্পত্তির হয়তো দলিল নেই।

তাহলে কি সরকার সেসব কেড়ে নেবে? তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে একটি ছাড়া কোনও রেজিস্টার্ড ওয়াকফ সম্পত্তি নেই। ১৯৭০ সালের ওয়াকফ আইনে, ২০০৩ এবং ২০১৩ সালের আইনেও রেজিস্ট্রেশনের কথা বলা হলেও সে-সবের প্রামাণ্য দলিল নেই। জম্মু-কাশ্মীরে বহু ওয়াকফ সম্পত্তিতে মসজিদ, দরগাহ, মাজার রয়েছে, যার কোনও দলিল নেই। তাহলে কী সরকার সেসব ওয়াকফ নয় বলে চিহ্নিত করবে? ইসলাম ধর্মে যাকাত দান ও সদকার প্রসঙ্গ তিনি উল্লেখ করেন সুপ্রিম কোর্টে।