পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ ওরা চন্দ্রিমাকে থামাতে পারলেও, আমার সঙ্গে পারবে না। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈটক করে বাজেট পেশের সময় এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় বাজেট পেশ করা শুরু করতেই একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয় বিজেপি বিধায়করা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। এই প্রসঙ্গে মমতা কটাক্ষ করে বলেন, ওয়ার্ক আউট নয়, ওয়াক আউট করাটাই বিজেপির কাজ। এদিন একের পর এক কটাক্ষ করে উত্তরপ্রদেশ ভোট নিয়ে বিজেপিকে কোণঠাসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
আজ বিধানসভায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের রাজ্য বাজেট পেশ করতে গিয়ে বিজেপির তুমুল বাধার মুখে পড়ে রাজ্য সরকার।
ঠিক সেই সময় হাল ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীও অমিত মিত্র ভার্চুয়ালি বাজেট পেশের আয়-ব্যায়ের সমতা তুলে ধরেন।আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে ধারাবাহিকভাবে তাদের সামাজিক প্রকল্পগুলি চালু রেখেছে। এর ফলে অবশ্য ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল পেয়েছে তৃণমূল। তাই এই সামাজিক প্রকল্পগুলি আগামী দিনেও যে চালিয়ে যাবে সরকার তাতে কোনও সন্দেহ নেই। একদিকে যেমন চলছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প যার মাধ্যমে প্রতি মাসে পরিবারের মহিলাদের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এর সঙ্গে চলছে আরও অনেক প্রকল্প যেমন স্বাস্থ্যসাথী, দুয়ারে রেশনের মতো সামাজিক প্রকল্প যা আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে মমতা সরকারকে।
এদিন বাজেট পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রকল্পগুলিতে অভূতপূর্ব সাড়ার কথা উল্লেখ করেন। এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় বলেন, ভুয়ো বাজেট পেশ করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
সামগ্রিকভাবে দেখতে গেলে এখন গোটা বিশ্বের অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। প্রথমে কোভিডের মার, তারপর শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই অবস্থায় শুধু পশ্চিমবঙ্গে কেন গোটা দেশেই নতুন লগ্নি আসছে না। যে শিল্পগুলি রয়েছে তাদেরও আয় কমেছে বিস্তর। ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলির অবস্থাও তথৈবচ।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যকে সামাল দিতে হবে খরচের বোঝা। গতবছর জুলাই মাসে পেশ করা রাজ্য বাজেটে সামাজিক প্রকল্প খাতে ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার কোটি টাকা। সেটাও আবার পুরো অর্থ বছরের জন্য নয়। এবার বাজেটে সামাজিক খাতে ব্যয় সামলে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। এখন তেলের দাম যেহেতু আগুন। ফলে তার থেকে আয় হওয়া করের অঙ্ক বাড়বে, যার ফলে সুরাহা হবে সরকারের। জিএসটি এবং অন্যান্য কর বাবদ রাজ্যের রাজস্ব আদায় বেড়ে দাঁড়াবে ১.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা বলে মনে করছে সরকার।