পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী ময়দানে নামলেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মিম-কে প্রায়শই 'বিজেপির বি-টিম' হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ওয়াইসি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তাঁর দল মাত্র ১১টি আসনে লড়ছে। তৃণমূল ও কংগ্রেস ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বামফ্রন্ট ২৫০টি আসনে লড়ছে। বিজেপি ২৯৪টি আসনে লড়ছে।

ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, "আপনারা বাকি ২৭০টির বেশি আসনে জিতে বিজেপিকে হারিয়ে দিন না! আমার ১১টি আসন নিয়ে কেন এত মাথাব্যথা? আর কতদিন এই সমাজকে নিজস্ব নেতৃত্ব গঠন করা থেকে আটকে রাখবেন?"

বঙ্গে বিজেপির উত্থানের জন্য তিনি সরাসরি তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বিজেপি যদি আজ শক্তিশালী হয়ে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী তৃণমূল।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্কুল ও হাসপাতালের চরম অভাব রয়েছে। অনেক জায়গায় হাসপাতাল থাকলেও শয্যা নেই, আবার কোথাও ডাক্তার নেই। ওয়াইসির কথায়, সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে বিজেপিকে যদি কেউ চোখে চোখ রেখে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, তবে তা হলো মিম। মুসলিম সমাজকে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াইসি।

একইসঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়কে দেশভাগের জন্য দায়ী করার প্রবণতাকেও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। গুজরাটের লিম্বায়তে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হায়দরাবাদের সাংসদ বলেন, ইতিহাসের প্রকৃত সত্য আড়াল করা হচ্ছে। মৌলানা আবুল কালাম আজাদের লেখা 'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম' বইটির প্রসঙ্গ টানেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, "দেশভাগের জন্য মুসলিমরা দায়ী ছিল না। কংগ্রেস কি এই বিভাজনের জন্য দায়ী নয়? মৌলানা আজাদ তাঁর বইতে স্পষ্ট লিখেছেন, তিনি মহাত্মা গান্ধি এবং জওহরলাল নেহরুর কাছে গিয়েছিলেন এবং দেশভাগ রুখতে অনুরোধ করেছিলেন।"