পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে আজ শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। তার আগে রবিবার রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট করে সতর্কতা জারি করা হল। ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, "আগামীকাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু, লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বসতে চলেছেন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায়। কাল সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীরা রওনা দেবেন নিজের নিজের পরীক্ষা কেন্দ্রে, বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে। দূর্ভাগ্যের কালই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের তরফে রাজ্য জুড়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আমাদের শুধু এটুকুই বলার-পরীক্ষার্থী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিকূলতায় ফেলে, এমন কোনও কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে হতে পারে না। নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে যাতে কাল পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেন, সেটাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” প্রসঙ্গত, তৃণমূলপন্থী অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
মন্ত্রীর সামনেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে জোরাল আন্দোলনে সরব হন পড়ুয়ারা। ওঠে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবি। তা নিয়েই তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস। উত্তেজনার আবহেই শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির নিচে পড়ে আহত হন দুই ছাত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলি ‘আক্রান্ত’ হওয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার রাজ্যের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এই ধর্মঘট ঘিরে আবারও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজ্য পুলিশ।
তাই আগেভাগেই এই সতর্কতা বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে থাকবে বাড়তি নজরদারি। রাস্তায় কোনওরকম অসুবিধা, সমস্যা হলে নিকটবর্তী পুলিশকর্মীদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ কোনও সমস্যা করলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রবিবার সকাল থেকেই থমথমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে ছেঁড়া ব্যানার ও হোর্ডিং। শনিবার রাতেই তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসে আগুন লেগে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে।
পুড়ে ছাই হয়ে যায় অশিক্ষক কর্মচারীদের অফিস। ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শিক্ষাবন্ধুর অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের নাম মহম্মদ সাহিল আলি। জানা গেছে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তনী বর্তমানে বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত। কী কারণে আগুন লাগানো হল তা জানার চেষ্টা চলছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনায় পাঁচটি এফআইআর দায়ের হয়েছে যাদবপুর থানায়। তার মধ্যে তিনটিই করা হয়েছে ওয়েবকুপার পক্ষ থেকে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে পড়ুয়াদের তরফেও পাল্টা এফআইআর দায়ের হয়েছে। তবে রবিবার যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি ছড়িয়ে না পরে সেদিকে নজর রয়েছে পুলিশের। তবে, তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত যাদবপুরের ঘটনায় কোনও কর্মসূচির কথা জানানো হয়নি।