মুম্বই, ১৬ জানুয়ারি: বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান আক্রান্ত। অজ্ঞাত পরিচয় এক দুষ্কৃতী তার বাড়িতে ঢুকে তাকে ৬ বার ছুরির কোপ বসায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সইফের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই অস্ত্রোপচারে ইতিমধ্যেই চিকিৎসকরা অভিনেতার শরীর থেকে ছুরির অংশ বার করেছেন। সইফের স্নায়ুর অস্ত্রোপচারও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিনেতার কসমেটিক সার্জারিও হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ। তদন্তকারীদের একটি বিশেষ দলও গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে এই ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বান্দ্রার মতো বর্ধিষ্ণু এলাকায় অভিনেতাদের নিরাপত্তার বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। ওই এলাকায় অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকেন। এই ঘটনার পর থেকে তাঁরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বান্দ্রার সৎগুরু শরণ বিল্ডিংয়ের সাততলায় ছিলেন সইফ। রাতে তিনি সন্তানদের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর হামলা হয়। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আক্রান্ত হন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। কোনও অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। করিনা কাপুরের টিমের তরফে জানানো হয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে কেউ বাড়িতে ঢুকেছিল। সেই হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সইফের উপর ছুরি দিয়ে সেই দুষ্কৃতী হামলা করে। জানা যাচ্ছে, যখন সইফের উপর হামলা হয় তখন তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুষ্কৃতী তাঁকে হামলা করে। তখন করিনা কাপুর ও দুই সন্তান সেই ঘরেতেই ছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁরা কোনওরকমে হামলা থেকে রক্ষা পান।
সইফ ছাড়া তাঁর পরিবারের আর কেউ আক্রান্ত হননি। তবে সেখানে আর একজন মহিলা স্টাফ ছিলেন। তাঁর উপরও হামলা হয়। তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সেই মহিলার নাম কী বা পরিচয় সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, সইফের উপর হামলার ২ ঘণ্টা আগের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলাকারী আগে থেকেই ছিল সেই ফ্ল্যাটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বাড়ির পরিচারিকাও। তবে ওই দুষ্কৃতীকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে চিরুনি তল্লাশি।
সইফ আলি খানের উপর হামলা কাণ্ডে প্রথম থেকেই সন্দেহের তীর পরিচারিকার দিকে।
ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকেও। তবে এরই মধ্যে সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ বলছে, ঘটনাটি ঘটার দুই ঘণ্টা আগে কাউকে সইফের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে দেখা যায়নি।আরও পড়ুন:
প্রশ্ন হচ্ছে, তবে কি হামলাকারী লুকিয়ে ছিল আগে থেকেই? সূত্র মারফৎ দাবি, পরিচারিকার সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল দুষ্কৃতীর। এও শোনা যাচ্ছে, দু’জনের মধ্যে ছিল প্রণয়ঘটিত সম্পর্কও। যদিও এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে পুলিশের তরফে অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ পায়নি। মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি আছেন সইফ। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর আপাতত বিপদ কেটেছে। সইফের টিমের তরফে এ নিয়ে প্রকাশ হয়েছে এক বিবৃতিও।
আরও পড়ুন:
তাতে লেখা, ‘সইফ আলি খানের ইতিমধ্যেই অস্ত্রোপচার হয়েছে। উনি ক্রমশ সুস্থতার দিকে এগিয়ে চলেছেন। ডক্টর নীরজ উত্তমণি, ডক্টর নীতিন ডাঙ্গে, ডক্টর লীনা জৈন ও লীলাবতি হাসপাতালের সকলকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। সকল ভক্ত ও শুভান্যুধায়ীদেরও আমাদের তরফ থেকে অনেক ধন্যবাদ।’