পারিজাত মোল্লা: সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের তরফে এক মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে অব্যাহতি দেওয়া হল।
আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে উদ্দেশ্য করে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি যে মন্তব্য করেছিলেন তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে দাখিল হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলাতে নাম জড়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ।
আরও পড়ুন:
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বাদ দেওয়ার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি কয়েকমাস আগে রাষ্ট্রপতির রূপ ও বর্ণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ । তার জেরে মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলায় জুড়ে দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও।
আরও পড়ুন:
সোমবার সে ব্যাপারেই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
এদিন প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, -' ওই মামলা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাদ দিতে হবে'। এদিন শুনানি পর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সপ্তাংশু বসু জানান, -' এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ভূমিকা নেই। অযথা তাঁর নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে'।আরও পড়ুন:
অখিল গিরির ওই মন্তব্য নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এফআইআর দায়ের হয়েছিল রামনগরের বিধায়কের বিরুদ্ধে। রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি এও বলেছিল, -' বর্তমান রাষ্ট্রপতি একজন আদিবাসী অংশ থেকে উঠে আসা মানুষ। সর্বোপরি তিনি মহিলা।
অখিলের মন্তব্যেই স্পষ্ট তৃণমূল মহিলা ও আদিবাসীদের কী চোখে দেখে'।আরও পড়ুন:
তবে তৃণমূলের তরফে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি মমতা নিজে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, 'রাষ্ট্রপতিকে আমি পছন্দ করি'। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে অব্যাহতি দিলেও রাজ্যকে জমা দিতে হবে হলফনামা । এমনই নির্দেশ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের।এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির বিরুদ্ধে । তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে বিজেপি'র তরফে নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।
পাশাপাশি হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। এছাড়াও বিজেপি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সরব হয় এই ইস্যুতে। যদিও অখিল গিরির দাবি ছিল তিনি মোটেও রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে কোনও মন্তব্য করেননি। পরে মামলাতে নাম জড়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের । সেই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হল মুখ্যমন্ত্রীর নাম ।রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় মন্ত্রী অখিল গিরির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয় আদালতে। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার আর্জি জানানো হয় । মামলাকারী জানান, অখিল গিরিকে অবিলম্বে সরানো হোক রাজ্যের কারামন্ত্রীর পদ থেকে । সঙ্গে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিক আদালত।আরও পড়ুন:
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নাম এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারিতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।