নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপি বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ক্রমশ মধ্যমণি হয়ে উঠছেন বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের বৈঠকেই তা প্রমাণিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে তৃণমূল নেত্রীর আহ্বানে বিশেষ বৈঠকে হাজির ছিলেন কংগ্রেস, এনসিপি, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আরজেডি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, শিবসেনার নেতা-নেত্রীরা।
আরও পড়ুন:
ঘন্টা দুয়েকের বৈঠকে প্রার্থী বাছাই করা না গেলেও সব দলই সহমতে পৌঁছেছে যে একজোট হয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া হবে। মোদি সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে একজন যোগ্য ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা হবে। খুব শিগগিরই বৈঠকে বসে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন:
এনসিপি সুপ্রিমো তথা মরাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পওয়ার রাজি না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে গোপালকৃষ্ণ গান্ধি ও জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার কথা ভাবা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন:
এদিনের বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়েও যোগ দেয়নি তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি, আম আদমি পার্টি, শিরোমণি আকালি দল, বিজু জনতা দল ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস। যদিও পাঁচ দলের গরহাজির থাকাকে তেমন গুরুত্ব দেননি বৈঠকে হাজির বিভিন্ন দলের নেতারা।
আরও পড়ুন:
আগামী লোকসভা ভোটের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী ঐক্যে শান দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন:
দেশের বিজেপি বিরোধী দলগুলির কাছে কংগ্রেস যে ক্রমশই অপাংক্তেয় হয়ে পড়ছে এবং বিজেপি বিরোধী ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে সোনিয়া গান্ধির দল প্রধান অন্তরায় তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি রাজনীতিতে পোড়খাওয়া মমতার। তাই নিজেই বিরোধীদের এক ছাতার তলায় আনতে এদিন রাজধানীর কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক ডেকেছিলেন।
আরও পড়ুন:
সেই বৈঠকে সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে, জয়রাম রমেশ, এনসিপির শরদ পওয়ার, প্রফুল্ল পটেল, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, ডিএমকে'র টি আর বালু, শিবসেনার প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা, পিডিপির মেহবুবা মুফতি, আরজেডির মনোজ কুমার ঝা, রাষ্ট্রীয় লোক দলের জয়ন্ত চৌধুরী, সুধীন্দ্র কুলকার্নিরা।
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক ছুঁতমার্গ দূরে সরিয়ে রেখে হাজির হয়েছিলেন সিপিএমের ই করিম, আর এসপি'র প্রেমাচন্দ্রন, সিপিআই (এম-এল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্যরা।
আরও পড়ুন:
তবে কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গে সমদুরত্বের দোহাই পেড়ে বৈঠক এড়িয়েছে টিআরএস, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, বিজেডি, আপ ও শিরোমণি অকালি দল।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা এনসিপির সুপ্রিমো শরদ পওয়ারের নাম রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর জন্য প্রস্তাব করেন মমতা। যদিও সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে মরাঠা স্ট্রংম্যান জানান, ‘সক্রিয় রাজনীতিতেই থাকতে চান তিনি।’
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের মতামত জানতে চাওয়া হলেও দলের প্রতিনিধিরা কোনও নাম প্রস্তাব করেননি। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো প্রস্তাব দেন, শরদ পওয়ারের বিকল্প হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধির নাম বিবেচনা করা হোক।
ঘন্টা দুয়েকের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে না পারলেও সব দলের প্রতিনিধিরা ঐক্যমতে পৌঁছেছেন, বিজেপিকে বিনাযুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছাড়া হবে না। এক জোট হয়েই প্রার্থী দেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আজকের বৈঠকে সব দলই শরদ পওয়ারজির নাম প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি যদি প্রস্তাব বিবেচনা করে রাজি হন, তাহলে সব বিরোধী দল তাঁকে সমর্থন করবে। না হলে বিকল্প প্রার্থীর নাম ভাবা হবে। যাই হোক না কেন, সর্বসম্মতভাবেই প্রার্থী দাঁড় করানো হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফের বৈঠক হবে। তখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
’আরও পড়ুন:
মোদি সরকার গণতন্ত্রের উপরে বুলডোজার চালাচ্ছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে যেভাবে ধ্বংস করে চলেছে তার হাত থেকে বাঁচতে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হবে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
আরও পড়ুন:
এদিনের বৈঠকে হাজির ১৬টি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এক সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে সেই প্রস্তাব পাঠ করেন সুধীন্দ্র কুলকার্নি। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ঐক্যমতের ভিত্তিতেই প্রার্থী বাছাই করা হবে। এমন একজনকে প্রার্থী করা হবে যিনি দেশের সংবিধানকে রক্ষা কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মোদি সরকার আর যাতে দৈসের গণতন্ত্রের সর্বনাশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করবেন।’
আরও পড়ুন:
এদিনের বৈঠকে টিআরএস সহ পাঁচ দলের প্রতিনিধিদের গরহাজিরকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে চাননি মমতা। তাঁর কথায়, ‘ সব গুরুত্বপূর্ণ দল আজকের বৈঠকে হাজির হয়েছে। যারা আসেনি তাদের হয়তো অন্য কোনও কাজ ছিল। কিংবা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল। সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি না।’