পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন বাড়ছে। বিশেষ করে সিপিএম  এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে মতবিরোধ এখন প্রকাশ্যে। চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে এখনও কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি, উল্টে সংঘাত আরও জটিল হয়েছে। যে চারটি কেন্দ্র ঘিরে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলি হল-কোচবিহার উত্তর, জলপাইগুড়ি সদর, হরিশচন্দ্রপুর এবং গলসি। অভিযোগ, এই আসনগুলিতে একতরফাভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিপিএম।

যদিও এর মধ্যে হরিশচন্দ্রপুর ও গলসি আসন নিজেদের জন্য দাবি করেছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। সেই দাবি অগ্রাহ্য হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব।

দলের বৈঠকের পর রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। ফলে ওই চারটি আসনে তারাও নিজেদের প্রার্থী দেবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলিতে শরিকদের মধ্যেই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ লড়াই প্রায় নিশ্চিত।

  অবশ্য এই ধরনের পরিস্থিতি বামফ্রন্ট রাজনীতিতে নতুন নয়। আগের নির্বাচনগুলিতেও শরিকদের মধ্যে আসন নিয়ে মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে ফরওয়ার্ড ব্লক ও সিপিএমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।এদিকে, জোটের অন্য শরিকদের মধ্যেও অশান্তি বাড়ছে। আইএসএফ বাসন্তী ও বোলপুরে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করতেই আপত্তি তুলেছে আরএসপি।
ওই দুই আসনে নিজেদের দাবি ছাড়তে নারাজ আরএসপি। পাল্টা আইএসএফ জানিয়েছে, তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে।

অন্যদিকে, ভরতপুর আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাম জোটেরই শরিক সিপিআই (এম এল) লিবারেশন । এই আসনটিও দাবি করেছিল আরএসপি। ফলে একাধিক কেন্দ্রে শরিকদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জট খুলছে না, বরং আরও জটিল হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখেও বামফ্রন্টে আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশেষ করে জোটসঙ্গী আইএসএফকে কতগুলি আসন ছাড়া হবে, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি সিপিএম।