পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভোট শেষ হলেও রাজ্যে মোতায়েন থাকবে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুটি দফায় ভোট হবে বঙ্গে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরেও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ কোম্পানি শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আরও ১,৯২০ কোম্পানি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মোট বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২,৪০০।

 

কমিশন সূত্রের খবর, আইন-শৃঙ্খলা সামলাতে নির্ধারিত ৫০০ কোম্পানির মধ্যে থাকবে সিআরপিএফ-এর ২০০, বিএসএফ-এর ১৫০, সিআইএসএফ-এর ৫০, আইটিবিপি-র ৫০ এবং এসএসবি-র ৫০ কোম্পানি। ভোট পরবর্তী হিংসা,  প্রতিশোধমূলক আক্রমণ বা ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা থেকেই এই প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গণনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইভিএম, স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ২০০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে। ভোটের পর কতদিন এই বাহিনী মোতায়েন থাকবে? সে বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই ৫০০ কোম্পানি অন্তত পনেরো দিন রাজ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে  প্রয়োজনে সেই মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

নজরদারি জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তিরও ব্যবহার হবে। প্রায় ২ লক্ষ ওয়েবক্যামের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করবে বডি ক্যামেরা ও ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা। কন্ট্রোল রুমে নজরদারির জন্য থাকবে রোবোটিক ডগ, আর গোলমাল ঠেকাতে আকাশপথে নজরদারিতে থাকবে ড্রোন।

নির্বাচন-পরবর্তী এই ব্যাপক নিরাপত্তা বন্দোবস্ত থেকে স্পষ্ট, কেন্দ্র সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক। কমিশনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর ১৩০০-র বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, যার প্রায় ৯০ শতাংশই ২ থেকে ৫ মে-র মধ্যে সংঘটিত হয়। ওই সময় সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের হাতে।

৫ মে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই প্রেক্ষাপটে অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছিল, যার তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর। এবারও হিংসা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেসব জায়গায় বাড়তি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে বলে নিএবাছন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে। ৩১ মার্চের মধ্যে আরও ৩০০ কোম্পানি যুক্ত হবে, যার মধ্যে সিআরপিএফ-এর ১২৫ এবং বিএসএফ-এর ১০০ কোম্পানি থাকবে। ১০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬০০ কোম্পানি পৌঁছানোর কথা। পাশাপাশি বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এসএপি) অতিরিক্ত ৩০০ কোম্পানি আনা হবে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাহিনী মোতায়েন, ভোটের আগে এলাকা দখল বজায় রাখা এবং ভোট-পরবর্তী সময়ে বড় মাপের বাহিনী উপস্থিত রাখার মতো পরিকল্পনা করা হয়েছে।